• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
উত্তরায় ফিলিং স্টেশনের টাকা ডাকাতির ঘটনায় ৫ জন গ্রেফতার; অস্ত্র, গুলি ও লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা উদ্ধার তিন বছর পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি *ভাটারায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযানে গ্রেফতার ০৫, বিপুলসংখ্যক সিম ও v *দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে: আইজিপি* ডনের সঙ্গে সামিরার অ/ন্ত/র/ঙ্গ ছবি নিয়ে তোলপাড়, এবারে রহস্য ফাঁ/স! রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা শেষে কথা বলছে ১১ দলীয় জোট সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভু/য়া পরিচয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্র/তা/র/ণা, ডিবির অভিযানে গ্রে/ফ/তা/র *রাজধানীর পল্লবীতে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় সন্ত্রাসী ল্যাংড়া রুবেলসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিব

তিন বছর পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি

রিপোর্টার সেলিম বেপারী / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. আশরাফুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি মো. রফিকুল ইসলাম (৫৪), পিতা-মৃত নুর হোসেন মোল্লা, সাং-গাড়াদহ, বর্তমানে সাং-জামিরতা, থানা-শাহজদাপুর, জেলা- সিরাজগঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিট।
গত ১২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ১টার দিকে শাহজাদপুর থানাধীন জামিরতা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়,গত ৩১/০৮/২০২৩ খ্রিস্টাব্দ তারিখ সন্ধ্যার পর রফিকুল মোবাইল ফোনে আশরাফুলকে একাধিকবার ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে জামিরতা বাজারে নিয়ে যায়। এরপর আশরাফুল আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। রাতে পরিবারের সদস্যরা তার অপেক্ষায় থাকলেও সে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও আশরাফুলের সন্ধান না পাওয়ায় তার বাবা শাহজাদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

আশরাফুলের নিখোঁজের পর তার পরিবারের সদস্যরা রফিকুলের কাছে গিয়ে আশরাফুলের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুলের অবস্থান ও কথাবার্তায় তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে আশরাফুলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তার মা মোছা. নাছিমা খাতুন ১৩/১১/২০২৩ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে তিনজনকে আসামি করে পিটিশন মামলা নং-২৮৮/২০২৩ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদলত মামলাটির তদন্ত ভার সিআইডি সিরাজগঞ্জ এর উপর ন্যস্ত করেন।

মামলাটি ছিল আপাত ক্লু-লেস শিশু অপহরণ মামলা। দীর্ঘদিন তদন্ত করেও ভিকটিমের অবস্থান বা তার সঙ্গে কী ঘটেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আজমল হোসেনের ওপর অর্পিত হলে সিআইডি, সিরাজগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোনালিসা বেগম, পিপিএম-এর নির্দেশনায় তদন্তের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার আরজি পুনঃবিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়ভাবে গোপন ও প্রকাশ্য তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ও ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া যায় এবং এজাহারনামীয় ১নং আসামি মো. রফিকুল ইসলামের ভূমিকা বিশেষভাবে সামনে আসে। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় অধিকতর নিবিড় তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি পিটিশন মামলা থেকে নিয়মিত এফআইআর হিসেবে শাহজাদপুর থানায় রুজুর আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশে মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে রুজু হওয়ার পর তদন্ত আরও গতিশীল হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ দুপুর ১৩.৩০ ঘটিকায় শাহজাদপুর থানাধীন জামিরতা বাজার এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার অন্তরালে থাকা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল জানায়, ভিকটিম আশরাফুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা অবস্থায় রফিকুল জানতে পারে যে, আশরাফুল তার আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একজন যৌনকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছে।বিষয়টি রফিকুলের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে সেই ক্ষোভ থেকেই সে আশরাফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রফিকুল মোবাইল ফোনে আশরাফুলকে ডেকে যমুনা নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট দেওয়ার কথা বলে রফিকুল কৌশলে আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। ওষুধের প্রভাবে আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে রফিকুল তাকে যমুনা নদীর পানিতে ফেলে দেয়। পরে নদীর স্রোতে আশরাফুলের মরদেহ ভেসে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল জানায়।
রফিকুল ইসলাম পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। প্রায় ৭/৮ বছর আগে উল্লাপাড়া থানা এলাকায় মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তাঁতের কাজে সহযোগিতা করার সময় তার বড় ছেলে শাহিনের সঙ্গে রফিকুলের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। পরবর্তীতে শাহিনের বিয়ের বিষয় জানতে পেরে রফিকুল ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনের পুরুষাঙ্গের অংশবিশেষ কেটে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মন্টু মিয়া বাদী হয়ে ২৩/০৬/২০১৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখে শাহজাদপুর থানায় মামলা নং-২৫, ধারা-৩২৬/৩০৭ পেনাল কোড দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে সে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে সাজা ভোগ করে।

সিআইডির তদন্তে আশরাফুলকে অপহরণের আড়ালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হলেও ভিকটিমের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রফিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং সম্ভাব্য অন্যান্য উৎস থেকে মরদেহের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর ভাটি অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে অজ্ঞাতনামা মরদেহ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট থানার রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধার, আসামির দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/