নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
কক্সবাজারে টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং শহর মিলিয়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আটজন এবং কক্সবাজার শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বসতিগুলোতে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বৃষ্টিপাত ও পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৬৭ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, “অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।”
পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও উদ্ধার কার্যক্রম
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের মাটি কেটে গর্ত করে তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলোতে বসবাসরতদের ওপর রাতের অন্ধকারে পাহাড় ধসে পড়লে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্প, কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্প এবং ১৫ নম্বর ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে রাত পৌনে দুইটার দিকে ধসের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়লে চাপা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “অনেকে সতর্কবার্তা মেনে সরিয়ে নেওয়া হলেও, যারা পাহাড়ের গর্ত খুঁড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল, তারাই মূলত এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।”
ঝুঁকিতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এর মধ্যে পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে অবস্থিত বসতিগুলো প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম ঝুঁকির মুখে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড় কাটার ফলে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন নিয়মিত প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য আরও ধস এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
https://slotbet.online/